শৈশব মানুষের জীবনের এমন একটি অধ্যায়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পেছনে পড়ে যায়, কিন্তু স্মৃতির ভাঁজে চিরকাল রয়ে যায়। জীবনের দায়িত্ব, ব্যস্ততা ও বাস্তবতার চাপে পড়লেও শৈশবের দিনগুলোর কথা মনে পড়লে মন যেন অজান্তেই হালকা হয়ে ওঠে। এই childhood memories composition বিষয়টি তাই শুধু একটি রচনার বিষয় নয়, বরং মানুষের আবেগ, নস্টালজিয়া ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি অনুভব।
শৈশবের দিনগুলো ছিল তুলনামূলকভাবে দুশ্চিন্তাহীন। তখন বড় কোনো লক্ষ্য বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা ছিল না। সকাল মানেই খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, আর সামান্য কিছু পেলেই খুশি হয়ে ওঠা। ছোট ছোট বিষয়েই আনন্দ খুঁজে পাওয়ার ক্ষমতা ছিল, যা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই হারিয়ে যায়। আজ যখন জীবনের চাপ বেড়ে যায়, তখন সেই সরল দিনগুলোর কথা মনে পড়ে এক ধরনের প্রশান্তি আসে।
শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে পরিবারের ভূমিকা অবিচ্ছেদ্য। বাবা-মায়ের স্নেহ, দাদা-দাদী বা নানু-নানার গল্প, পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়—এসবই আমাদের মানসিক গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। তখনকার ভালোবাসা ছিল নিঃশর্ত, প্রত্যাশাহীন। সেই নিরাপত্তা ও ভালোবাসার অনুভূতি পরবর্তীকালে জীবনের কঠিন সময়ে আমাদের শক্তি জোগায়।
স্কুলজীবনও শৈশবের স্মৃতির একটি বড় অংশ। প্রথম বন্ধু, প্রথম শিক্ষক, প্রথম সাফল্য কিংবা ছোটখাটো ব্যর্থতা—সবকিছু মিলেই শৈশব পূর্ণতা পায়। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলে যেমন আনন্দ হতো, তেমনি ভুল করলে শাসনের মধ্যেও লুকিয়ে থাকত যত্ন। এসব অভিজ্ঞতাই আমাদের চরিত্র গঠনে সাহায্য করেছে।